বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
ছাগলকাণ্ডের মতিউরকেও ছাড়িয়ে গেলেন এনবিআরের সহিদুল: ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাট সম্পদ ৪০০ কোটির! রাজশাহী নগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন হামলা নারীসহ আহত ৪ রাজধানীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় বোন রাইসা আক্তারের ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পাবনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পাবনার বেড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশী অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস অনুষ্ঠিত পাবনার চাটমোহরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিক পালিত পাবনার ঈশ্বরদীর লোকোশেড মাদকের আড্ডা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে কুষ্টিয়ায় ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৩২

নেত্রকোনায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসিল জমি-শঙ্কায় কৃষকরা

Reading Time: 2 minutes

রিপন কান্তি গুণ,নেত্রকোনা:
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জেলার প্রায় ১১ হাজার ৮ শত ৮২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।গত তিন দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ জমির রোপন কৃত আমন ধানের চারা তলিয়ে যায়। আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং দ্রুত পানি নামতে শুরু করায় উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, তলিয়ে যাওয়া আমন ধানের চারা পূনরায় পনির উপর ভেসে উঠবে।বারহাট্টা উপজেলার দশধার গ্রামের কৃষক সুবল সরকার জানান, এ বছর তিনি ৩০ কাঠা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ১৫-১৬ কাঠা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনভাবে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি থাকলে আমার পুরা জমির ধানই পানির নিচে তলিয়ে যাবে।নেত্রকোনা সদর উপজেলার তাতিয়র গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া জানান, আমি ভাগে জমি চাষ করি। ‘জমির মালিকের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনে জমি লাগিয়েছি। আমার কপালই খারাপ। বৃষ্টির পানিতে জমি সব জমিই তলিয়ে গেছে’। মহাজনের টাকাই বা শোধ করবো কি করে? আর নিজের সংসারই বা চালাব কি করে? সবসময়ই এ দুঃশ্চিন্তাই করছি।বারহাট্টা উপজেলার কৈলাটি গ্রামের মাছ চাষী বজলু মিয়া বলেন, আমার চারটা পুকুরের বেশীরভাগ মাছই পানিতে ভেসে গেছে। চারদিকে জাল দিয় বেড়া দিয়েও কোন উপায় হয় নাই।নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে প্রায় ১১ হাজার ৪ শত ৮২ হেক্টর জমির আবাদি আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা সদরে ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর, পূর্বধলায় ২ হাজার ৩৬০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৪৫ হেক্টর, কলমাকান্দায় ১৮০ হেক্টর, মোহনগঞ্জে ১ হাজার ২০০ হেক্টর, বারহাট্টায় ২১৫ হেক্টর, আটপাড়ায় ১ হাজার হেক্টর, মদনে ৫০০ হেক্টর, খালিয়াজুরীতে ১২ হেক্টর ও কেন্দুয়ায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।তিনি কৃষকদের এখনই হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, দ্রুত পানি নেমে গেলে আমন ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মবর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর জানান, অতিবৃষ্টিতে জেলার ৭০৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আনুমানিক প্রায় ৮ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা।নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারওয়ার জাহান জানান, শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত উব্দাখালি নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে, ধনু নদীর পানি খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১.৮০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে, সোমেশ্বরী নদী পানি বিজয়পুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫.২২ সেমি ও দুর্গাপুরে ২.৪০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে ও কংশ নদীর পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২.৩৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com